আমি এখন টেপ এর পানি না ফুটিয়ে পান করি!

ঢাকায় প্রথম থাকা শুরু করি ২০০৮ এর জানুয়ারি থেকে, শুরু থেকে ই বাসায় পানি ফুটিয়ে ফিল্টার করে পান করতাম যদিও পরিশুধন এর কাজটা প্রথমে কাজের খালা করতো আর পরে বউ করতো, পানি ফুটানো এর ঝামেলা নিজে তেমন নেই নাই, আর কখনো বুঝতাম ও না, তাছাড়া একরকম জন্মগত ভাবে ই মনে হত টেপ এর পানি কি আবার খাওয়া যায়? দেশের টপ লেভেল শিক্ষা গ্রহণ করেও নিজের এই অধিকারটার কথা কখনো মাথায় আসেনি যদিও কত বড় বড় কম্পিউটার প্রব্লেম / প্রোগ্রাম সল্ভ করলাম / লিখলাম জীবনে । কিন্তু জীবনে একবার এর জন্য ও মনে হয় নাই টেপ এর পানি কোনরকম পরিশুধন না করে খাওয়া যায় । ঢাকার জীবন (স্পষ্ট করে “ওয়াসা”) আমাকে এমন শিক্ষা ই দিয়েছে যে নিজের গ্রামের বাড়ী কুমিল্লা এর বানাশুরা গিয়েও কখনো টেপ এর পানি এমনি পান করি নাই, টিওব-ওয়েল এর পানি পান করতাম অথবা ডাইরেক্ট মটর এর ।

এখানে জার্মানি আসার দিন প্রথম এ পানি পান করতেছিলাম না, ভাবতেছিলাম পরে ব্যবস্থা করবো, আপাতত বাইরে থেকে মিনারেল কিনে নিব কয়েকদিন এর জন্য, পরে যখন Faisal Ibrahim ভাই রুম এ আসলো বিকালে, তখন উনি বললেন টেপ এর পানি খাওয়ার যাবে, উনি নিজে খেয়ে ও দেখালেন, তাতেও নিশ্চিত হতে পারছিলাম না, যদিও ভয়ে ভয়ে খেয়েছি, ভাবতেছিলাম উনি হয়তো আমার মত এত কেয়ারিং / সতর্ক না অথবা অবিবাহিত তাই । পরের ২য় দিন যখন অফিস এ দেখালাম সবাই টেপ এর পানি পান করে তখন নিশ্চিত হলাম । আর আমিও নিশ্চিন্তে টেপ এর পানি পান করে যাচ্ছি এখানে ।

যদিও আমি ফেইসবুক এ তেমন একটিভ না, তাছাড়া সকল রকম নেগেটিভ খবর এড়িয়ে চলি পড়তে চাইনা, শেয়ার করি না, ইদানীং কিছু খবর দেখে মাথায় আসল, আমাদের দেশে পানি নিয়ে এই সমস্যা এর একটা সমাধান হয়তো সরকার অথবা জনগণ করতে যাচ্ছে, তাই লিখলাম, ভাবলাম তাদের বোঝার সুবিধার্থে অথবা আমার মত যারা ভাবে তাদের ভুল ভাঙ্গানুর জন্য। দোয়া করি এক এক করে দেশের সকল সমস্যা এর সমাধান আসুক ।

সবাই ভাল থাকুন, ভালবাসা অবিরাম! সুদূর জার্মানি থেকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *